তারাগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সেবার মানে খুশি রোগীরা
তারাগঞ্জ (রংপুর) প্রতিনিধি
রংপুর জেলার তারাগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সেবার মানে রোগীরা সুস্থ হয়ে হাস্যজ্জল মুখ বাড়িতে ফিরছে।
সরেজমিনে গেলে ওই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রত কয়েকজন বয়স্ক মহিলা এ প্রতিবেদককে জানান, আগোত হামরা আসি ঔষধই পাই নাই। জ্বর হইলেও যে ঔষধ দিছোলো আরও সমস্যা থাকলেও একই রকমের ঔষধ দিছিলো। ঔষধের অভাব দেখাইছিলো খুব।
অনেক্ষণ লাইনোত খাঁড়া হয়া থাকিও ঔষধ পাই নাই কোনো কোনো দিন। এর জন্যে হামার জ্বর বা শরীরের অন্য কোন সমস্যা হইলে খুব কষ্ট করির নাগছোলো। সেই জন্যে আগোত মেডিকেলোত কম আলচেনো।’ কথাগুলো বলছিলেন রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলার ইউনিয়নের শিয়াল পাড়া গ্রামের মৃত্যু নমির উদ্দিনের স্ত্রী আলেয়া বেগম।
প্রায় ৫ বছর আগে হারিয়েছেন স্বামীকে। ছেলে সন্তান নেই সংসারে। আছে শুধু তিন কন্যা সন্তান। তিন কন্যারে বিয়ে দিয়ে এখন খুব কষ্টে জীবনযাপন করছেন তিনি। অন্যের কাছে হাত পেতে যা পান তা দিয়েই কোনরকম চলে জীবন। এরকম হাজারো মানুষের ভরসা তারাগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি।
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটির সেবার প্রশংসা করেন উপজেলার ইকরচালী ইউনিয়নের ফকির শাহ পাড়া গ্রামের তোফাজ্জল হোসেন আর স্ত্রী শিল্পী বেগম বলেন, ‘এখান স্লিপ নিয়া ডাক্তারোক দেখানুং। ডাক্তার মোক ভালো করি দেখিয়া ঔষধ লেখি দেইল। সেই স্লিপ দিয়া ঔষধ নিনু। অনেকগুলা ঔষধ দেইল। এতগুলা ঔষধ মোক জীবনেও দেয় নাই’।
তারাগঞ্জ উপজেলাসহ পার্শ্ববর্তী কিশোরগঞ্জ, বদরগঞ্জ, সৈয়দপুর ও রংপুর সদর উপজেলারও অনেক রোগীরা আসেন এখানে চিকিৎসা নিতে। এখানে চিকিৎসা নিতে আসেন সাধারণত গরীব ও নিম্ন আয়ের মানুষেরা। কিন্তু বিগত সময়ের চেয়ে এখন চিকিৎসা ব্যবস্থার মান উন্নত ও ঔষধ সরবরাহ ভালো দেয়ার ফলে নতুন করে সরকারি এ হাসপাতালটির প্রতি আস্থা ফিরেছে সাধারণ এসব রোগীদের।
রংপুর তারাগঞ্জ উপজেলার সুশীল সমাজ সংগঠনের সভাপতি ও বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা প্রয়াসের চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম বলেন, রংপুর 2 তারাগঞ্জ বদরগঞ্জ এর মাননীয় সংসদ সদস্য জনাব মোঃ আবুল কালাম আহসানুল হক চৌধুরী ডিউক ভাইয়ের নির্দেশে তারাগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আনিছুর রহমান লিটন ভাইয়ের সার্বিক তত্ত্বাবধানে তারাগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা শামসুন্নাহার ম্যাডাম নিরলস পরিশ্রমই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সেবার মান উন্নয়ন হয়েছে।
তারাগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা অফিসার শামসুন্নাহার বলেন, আমি যোদানের পর লক্ষ্য করি যে তারাগঞ্জ এ সেবা গ্রহণ কারী জনগন শনিবারে সেবা নেয়ার জন্য হাসপাতালে আসতেন না কয়েকজন সেবাগ্রহনকারীর সঙ্গে কথা বলে বুঝতে পারি যে তারা জানতেন না হাসপাতালের বর্হির বিভাগ শনিবারে খোলা থাকে তাই আমি প্রচারনা চালাই এবং বর্তমানে শনিবারে প্রায় ৭ থেকে ৮ শত জন মানুষ বর্হিরবিভাগে সেবা গ্রহন করে হাসপাতাল থেকে। হাসপাতালে এনসিডি কর্নার থাকার কারনে ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপে আক্রান্ত রোগীরা গুণগত মানসম্পন্ন ঔষধ বিনামূল্যে পায়, যে ঔষধগুলোর মূল্য বাইরে কিনতে গেলে অনেক এবং আগত রোগীদেরকে বিনামূল্যে পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমেও সুচিকিৎসা দেওয়া হয়।
এখানে ডিজিটাল এক্স-রে এর মাধ্যমে এক্স-রে সেবা দেয়া হচ্ছে। এ্যাম্বুলেন্স সেবার মান ২৪ ঘন্টায় রয়েছে। এর ফলে গর্ভবতী মা সহ সকল রোগীদের চিকিৎসা সবসময় ডিউটিরত ডাক্তারের মাধ্যমে তদারকি করে থাকি। রোগীদের খাবার মানও আগের চেয়ে অনেক উন্নত। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার মানও অনেক বেশি।
তবে সল্পসংখ্যক জনবল নিয়ে আরও চিকিৎসা সেবার মান বাড়ানোর জন্য আমরা চেষ্টা করে যাচ্ছি।এজন্য আমার ডাক্তারবৃন্দ এবং সকল কর্মচারীবৃন্দের কাছে আমি কৃতজ্ঞ।
Comment / Reply From
You May Also Like
Latest News
Vote / Poll
ফিলিস্তিনের গাজায় ইসরায়েলি বাহিনীর নির্বিচার হামলা বন্ধ করতে জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উদ্যোগ যথেষ্ট বলে মনে করেন কি?

