জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি ‘মড়ার ওপর খাঁড়ার ঘা’: বাসদ
নিজ্বস প্রতিনিধি
জ্বালানি তেলের দাম লিটার প্রতি ১৫ থেকে ২০ টাকা বাড়ানোর সিদ্ধান্তে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ)।
সোমবার (২০ এপ্রিল) দলটির কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক কমরেড বজলুর রশীদ ফিরোজ গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এ উদ্বেগ জানান।
বিবৃতিতে তিনি বলেন, এমনিতেই দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। এর মধ্যে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো হলে পরিবহন, কৃষি সেচ ও উৎপাদন খরচসহ প্রায় সব খাতে এর প্রভাব পড়বে।
তিনি উল্লেখ করেন, চলতি মাসেই এলপিজি গ্যাসের দাম দুই দফা বাড়িয়ে ১২ কেজি সিলিন্ডারের মূল্য ১ হাজার ৯৪০ টাকায় উন্নীত করা হয়েছে, যা গত মাসেও ছিল ১ হাজার ৩০০ টাকা। ইতোমধ্যে পরিবহন মালিকরা ভাড়া বাড়ানোর জন্য চাপ দিচ্ছেন।
বিবৃতিতে বলা হয়, অতীতে ২০২২ সালে এক ধাপে ৩৪ থেকে ৪৬ টাকা পর্যন্ত জ্বালানির দাম বাড়ানো হয়েছিল। এবারও ‘সমন্বয়’ এর নামে দাম বাড়িয়ে সাধারণ মানুষকে নতুন করে চাপে ফেলা হয়েছে। অথচ আন্তর্জাতিক বাজারে দাম কমলেও দেশের বাজারে সে অনুযায়ী সমন্বয় করা হয় না বলে অভিযোগ করেন বাসদ নেতা।
তিনি আরও বলেন, জ্বালানি আমদানি ও বিক্রি থেকে সরকার প্রতিবছর বিপুল রাজস্ব আয় করে। চলতি অর্থবছরের প্রথম আট মাসেই বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) এক হাজার কোটি টাকার বেশি মুনাফা করেছে। তবুও মূল্যবৃদ্ধির ফলে বাজারে জ্বালানির প্রাপ্যতা বাড়বে, এমন কোনো নিশ্চয়তা নেই।
পেট্রোল ও অকটেনের একটি বড় অংশ দেশেই উৎপাদিত হয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, দাম বাড়ানোর পরও পাম্পগুলোতে ভিড় কমছে না, যা সরবরাহ ও বিতরণ ব্যবস্থার দুর্বলতাকে নির্দেশ করে। এ অবস্থায় মজুতদারদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া এবং বিপণন ব্যবস্থার অব্যবস্থাপনা দূর করার দাবি জানান তিনি।
বিবৃতিতে কৃষি খাতের বিষয়টিও বিশেষভাবে তুলে ধরা হয়। বলা হয়, দেশের সেচব্যবস্থার বড় অংশ ডিজেলচালিত পাম্পের ওপর নির্ভরশীল। বর্তমানে বোরো ধানের শীষ বের হওয়ার গুরুত্বপূর্ণ সময় চলছে, যখন নিয়মিত সেচ প্রয়োজন। এই সময়ে ডিজেলের দাম বাড়ানো হলে উৎপাদন ব্যাহত হতে পারে এবং খাদ্য নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়তে পারে।
এ প্রেক্ষিতে বাসদ কৃষি সেচে ব্যবহৃত ডিজেল ভর্তুকি মূল্যে সরবরাহের দাবি জানায়। পাশাপাশি জ্বালানি খাতে মূল্য নির্ধারণে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও জনস্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
Comment / Reply From
You May Also Like
Latest News
Vote / Poll
ফিলিস্তিনের গাজায় ইসরায়েলি বাহিনীর নির্বিচার হামলা বন্ধ করতে জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উদ্যোগ যথেষ্ট বলে মনে করেন কি?

