Dark Mode
Monday, 22 June 2026
ePaper   
Logo
চট্টগ্রামে জলাবদ্ধতা: ‘মেয়াদ বাড়ছে’ প্রকল্পের, সমন্বয়ে কমিটি

চট্টগ্রামে জলাবদ্ধতা: ‘মেয়াদ বাড়ছে’ প্রকল্পের, সমন্বয়ে কমিটি

চট্টগ্রাম ব্যুরো

তিনদিন ধরে জলাবদ্ধতা নিয়ে নানা আলোচনা-সমালোচনার পর এবার সেবা সংস্থাগুলোর মধ্যে ‘সমন্বয়ের জন্য’ কমিটি করে দিয়েছে সরকার।

জলাবদ্ধতা নিরসনে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ) এর অধীনে চলমান মেগা প্রকল্পটির মেয়াদ আবারও বাড়বে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।

বুধ ও বৃহস্পতিবার জলাবদ্ধতা নিয়ে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনে (সিসিসি) দফায় দফায় বৈঠক হয়েছে। প্রতিমন্ত্রীর নেতৃত্বে সব সেবা সংস্থার প্রধানরা খাল পরিদর্শন করেছেন। দ্রুত গতিতে কমিটি গঠন হয়েছে। সব শেষে সেই কমিটিও সভা করেছে।

 

মঙ্গলবার কয়েক ঘণ্টার টানা ভারি বৃষ্টিতে নগরীর জলাবদ্ধতা প্রবণ এলাকার পাশাপাশি নতুন নতুন এলাকাও প্লাবিত হয়। হিজড়া খাল ও জামালখান খালে সংস্কারের জন্য দেওয়া বাঁধের কারণে খাল দুটির আশেপাশের এলাকা তলিয়ে যায়।

এ নিয়ে গণমাধ্যমে ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তীব্র প্রতিক্রিয়ার পর সিটি মেয়র শাহাদাত হোসেন বুধ ও বৃহস্পতিবার চারবার প্রবর্তক মোড় এলাকায় যান। তবে সেখানে সিডিএ চেয়ারম্যান না থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন মেয়র।

অন্যদিকে বুধবার সংসদে চট্টগ্রামবাসীর কাছে দুঃখ প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী। সে দিনই স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রীকে চট্টগ্রামে গিয়ে জলাবদ্ধতা সমস্যার কারণ জেনে সমাধানের নির্দেশ দেন তিনি।

 

বুধবার রাতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে প্রবর্তক মোড় এলাকা ঘুরে প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, “চট্টগ্রাম শহর পানিতে ভাসছে না, সুন্দর আছে। যেরকম ছিল সেরকমই আছে।”

প্রতিমন্ত্রীর ওই বক্তব্য নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আবারও কড়া সমালোচনা শুরু হয়। সে দিন রাতেই সিটি করপোরশেন দপ্তরে সভা করে সমস্যা নিরসনে ‘দ্রুততম সময়ে’ সমন্বয়ক কমিটি গঠন হবে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।

তোপের মুখে সিডিএ চেয়ারম্যান

বৃহস্পতিবার সকালে নগর ভবনে সেবা সংস্থাগুলোর প্রধানদের সাথে বৈঠকে প্রতিমন্ত্রীর তোপের মুখে পড়েন সিডিএ চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো. নুরুল করিম।

প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম সিডিএ চেয়ারম্যানের উদ্দেশ্যে বলেন, “আপনি তো প্ল্যানিং করে ষড়যন্ত্র করছেন। আপনি তো সরকারের বিরুদ্ধের লোক।”

উত্তরে সিডিএ চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো. নুরুল করিম বলেন, “শাহাদাত ভাই আমাকে চিনে স্যার।”

জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, “শাহাদাত ভাই চিনলে কি হবে? চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের ৩৬টা ড্রেন (খাল)। প্রবলেমটা হয়েছে আপনাকে নিয়ে। মিডিয়াতে আপনার কোনো বক্তব্য নাই। আপনি বক্তব্য দেন না। আপনার বক্তব্য নেয় না, এটা কোনো কথা না।”

এরপর বৃহস্পতিবার সকালে ও দুপুরে নগরীর তিনটি স্থানে খালের কাজ পরিদর্শন শেষে প্রতিমন্ত্রী দাবি করেন, “সোশাল মিডিয়াতে চব্বিশ সালের, তেইশ সালের বিভিন্ন ছবি প্রকাশ করে একটা অপপ্রচার চালানো হয়েছে যে, চট্টগ্রাম মহানগর পানির মধ্যে ভাসছে।”

এরমধ্যে খবর আসে চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা নিরসনে সমন্বয় কমিটি গঠন করা হয়েছে।

স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের নেতৃত্বে চট্টগ্রাম নগরীর সব সেবা সংস্থার প্রধান খাল পরিদর্শন করেন।

১৯ সদস্যের কমিটি

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-সচিব আশফিকুন নাহার স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে ১৯ সদস্যের ওই কমিটি গঠন করা হয়।

ওই আদেশে বলা হয়, চট্টগ্রাম মহানগরীর সকল খাল ও পানি নিষ্কাশন নালা সারা বছর সচল রাখা, জলাবদ্ধতা নিরসন এবং বিভিন্ন উন্নয়ন ও সেবামূলক কাজের সমন্বয় জোরদারে এই কমিটি গঠন করা হয়েছে।

কমিটিতে সিটি মেয়রকে আহ্বায়ক করা হয়েছে। সদস্য হিসেবে রাখা হয়েছে- জলাবদ্ধতা নিরসনে মেগা প্রকল্পের পূর্ত কাজ পরিচালনাকারী সেনাবাহিনীর ৩৪ ইঞ্জিনিয়ারিং ব্রিগেডের কমান্ডার, চট্টগ্রাম ওয়াসার এমডি, অতিরিক্তি বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক, স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-সচিব, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশসহ বিভিন্ন সরকারি সংস্থার প্রতিনিধিদের।

এরপর বিকালে বিভিন্ন সেবা সংস্থার প্রতিনিধিদের নিয়ে এক জরুরি সভায় মেয়র শাহাদাত হোসেন বলেন, “গত বছর জলাবদ্ধতায় ৫০-৬০ ভাগ সাফল্য পাওয়ার পর আমরা ভুলে গিয়েছিলাম জলাবদ্ধতা নামক কিছু আছে। লোকজনও ভুলে গিয়েছিল। মঙ্গলবারের ঘটনার পর থেকে আবার নতুন করে জানল, হ্যাঁ জলাবদ্ধতা নামক কিছু আছে।

“জলাবদ্ধতা মুক্ত নগরী গড়ার জন্য সমন্বিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে আমাদের কাজগুলো শেষ করতে হবে। একজন আরেকজনকে দোষারোপে না গিয়ে সবাই যেন সম্মিলিত প্রয়াসে কাজ করতে পারি।”

তিনি বলেন, “এবার বর্ষার আগে আমরা একটা ‘সিগন্যাল’ পেলাম যে ৮৫ মিলিমিটার বৃষ্টিতে কি কি ‘ফেইস’ করতে পারি। এখন থেকে প্রস্তুতি আরো জোরদার করতে হবে। মূল বর্ষকাল এখনো রয়ে গেছে।”

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন দপ্তরে সেবা সংস্থাগুলোর কর্মকর্তাদের নিয়ে বৈঠক করেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। ছবি: পিআইডি

মেয়াদ বাড়ছে প্রকল্পের

এর আগে দুপুরে নগর ভবনে আরেক সভায় সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, “প্রশ্ন যাদের করার কথা ছিল, তারা দেশ থেকে পালিয়েছে। প্রকল্প দিয়েছে আগের স্বৈরাচার, এই প্রকল্প দিয়েছে বিনা ভোটের সরকার। আমরা তার দায়ভার বহন করছি।

“আমাদের সরকারের মেয়াদ ৭৬-৭৭ দিন। আমরা দিনরাত পরিশ্রম করছি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে। কোথাও যদি অন্যায় হয়ে থাকে নিশ্চয়তা দিতে পারি, সেই অনিয়মের বিচার হবে।”

তিনি বলেন, “প্রকল্প শেষ তো হয়ে যাওয়ার কথা ছিল জুনের মধ্যে। কিন্তু জলাবদ্ধতা নিরসনের জন্য পাঁচটা পয়েন্ট থেকে কাজ স্থগিত করে দিলাম। আপনাদের বাঁধ ও সরঞ্জাম উঠিয়ে ফেলেন। আমাদের প্রকল্প মেয়াদ আবার বাড়াতে হবে। আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে কাজ শেষ হবে।

“৩৬টি খাল সিটি করপোরেশনের কাছে হস্তান্তরের পর সেগুলো রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিষ্কার রাখা এবং সবসময় সচল রাখার জন্য ও যাতে ময়লা ফেলতে না পারে সেজন্য ‘নেটিং সিস্টেম’ করতে ডিপিপি প্রণয়নের নির্দেশ দিয়েছি।”

মেয়রের নেতৃত্বে সমন্বিত কমিটি জলাবদ্ধতা নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী বলেন, “চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের অগ্রগতি, ব্যয় বৃদ্ধি ও সময় বৃদ্ধির বিষয়গুলো সরকার গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনা করছে। ২০১৬ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত প্রকল্প বাস্তবায়নের বিভিন্ন ধাপের তথ্য সরকারের কাছে রয়েছে।

“কোথায় কী কারণে ব্যয় বেড়েছে কিংবা জটিলতা তৈরি হয়েছে, তা আন্তঃমন্ত্রণালয় পর্যায়ে আলোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।”

প্রবর্তক মোড়, কাতালগঞ্জ, জামালখানসহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকার কাজ এখনো চলমান রয়েছে। আগামী ডিসেম্বর মাসে আবারও চট্টগ্রাম সফর করে খাল সংস্কার কাজের অগ্রগতি পরিদর্শন করার কথা বলেছেন তিনি।

নগরীর ৫৭টি খালের মধ্যে ৩৬টি নিয়ে ২০১৭ সালের ৯ অগাস্ট একনেকে জলাবদ্ধতা নিরসনের মেগা প্রকল্প অনুমোদন হয়। পরের বছর ২৮ এপ্রিল নগরীর চশমা খালের আবর্জনা অপসারণের মধ্যে দিয়ে প্রকল্পের কাজ শুরু করে সিডিএ।

শুরুতে প্রকল্পটির ব্যয় ধরা হয় ৫ হাজার ৬১৬ কোটি টাকা। প্রকল্প সমাপ্তের সময় ধরা হয়েছিল ২০২৩ সালের জুন। পরে ২০২৩ সালের নভেম্বরে সংশোধন করায় প্রকল্প ব্যয় আরো ৩ হাজার ১০ কোটি টাকা বেড়ে হয় মোট ৮ হাজার ৬২৬ কোটি টাকা। মেয়াদ ঠিক করা হয় ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত।

Comment / Reply From

You May Also Like

Vote / Poll

ফিলিস্তিনের গাজায় ইসরায়েলি বাহিনীর নির্বিচার হামলা বন্ধ করতে জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উদ্যোগ যথেষ্ট বলে মনে করেন কি?

View Results
হ্যাঁ
0%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%

Archive

Please select a date!