কলাপাড়ার ৩০ জন গোল চাষীর মাঝে পাঁচ হাজার গোল গাছের বীজ বিতরণ
গোফরান পলাশ, কলাপাড়া (পটুয়াখালী)
বাংলাদেশ সুগারক্রপ গবেষণা ইনস্টিটিউট, রহমতপুর উপকেন্দ্র বরিশাল এর আয়োজনে কলাপাড়া কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সহযোগীতায় পতিত জমির ব্যবহার ও ভূমি ক্ষয় রোধ করে গুড় উৎপাদন ত্বরান্বিত করার জন্য বাগান সৃজনের লক্ষ্যে গোলপাতার বীজ বিতরণ ও চারা রোপন কর্মসূচী-২০২৫ উপলক্ষ্যে পটুয়াখালীর কলাপাড়ার নবীপুর গ্রামের ৩০ জন গোলচাষীর মাঝে পাঁচ হাজার বীজ ১৬ মে শুক্রবার দুপুরে বিতরণ করা হয়।
বীজ বিতরণ অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন,বাংলাদেশ সুগারক্রপ গবেষণা ইনস্টিটিউট বরিশাল রহমতপুর উপকেন্দ্রের ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. রতন কুমার গনপতি, কলাপাড়া কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ সহকারী কর্মকর্তা মো. ওয়ালিউল্লাহ, কৃষক উত্তম কুমার সরকার, শিক্ষক দিলীপ কুমার শিকারী, সাংবাদিক মো শরিফুল হক শাহীন প্রমূখ।
বীজ বিতরণ অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ সুগারক্রপ গবেষণা ইনস্টিটিউট বরিশাল রহমতপুর উপকেন্দ্রের ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. রতন কুমার গনপতি বলেন, বাংলায় গোলপাতা, ইংরেজিতে নিপা পাম। পাম জাতীয় উদ্ভিদ প্রজাতী, ম্যানগ্রোভ উদ্ভিদ। অজস্র শিকড়যুক্ত খাটো কান্ডের এই গাছ। বাংলাদেশের মানুষের কোনরূপ প্রচেষ্টা ছাড়াই সুন্দরবনে প্রাকৃতিকভাবেই গোলপাতা গাছের জন্ম হয়। উপকূলে বসবাসকারী লোকেরা গৃহস্থালির কাজের জন্য ক্ষেত জমিতেও কিছুটা গোলপাতা চাষ করেন। শুধু ঘরের ছাউনি এবং জ্বালানি হিসেবে গোল পাতা ব্যবহার করে এবং স্থানীয় কিছু লোক এর রস সংগ্রহ করে পান করে এবং গুড়ও তৈরি করছে।
গোলপাতা গাছের ফল গুচ্ছাকারের এবং বেশ বড়, অনেকটা তালের শাঁষের মতো। কচি তালের শাঁষের মতোই এ ফল কচি অবস্থায় কেটে খাওয়া হয়। ফলের ডগা কেটে পাত্র বেঁধে রেখে গোলের রস সংগ্রহ করা হয়। এই রস আখ, তাল কিংবা খেজুর গাছের রসের ন্যায় মিষ্টি এবং সুস্বাদু। যা সরাসরি পান করা যায়। গোলের রসের গুড়ের তৈরি পাটালি, মিষ্টি, পিঠে ও পায়েস খুব সুস্বাদু। এই রস গরম লুচি, রুটি দিয়ে বা মুড়ি দিয়ে খেতে খুব ভালো লাগে। আয়ুর্বেদ শাস্ত্র মতে, গোল গাছের মিষ্টি রস খেলে কৃমি নাশ হয়। ডিহাইড্রেশন দূর করে এবং গোল রস অসুস্থ্য শরীরে দ্রুত শক্তি আনতে সহায়তা করে।গোলের রস থেকে উন্নত মানের গুড় এবং চিনি তৈরি করা যায়। গোলের রস থেকে উন্নত ভিনেগার প্রস্তুত করা যায়। গোল গাছের ফল প্রচুর ভিটামিন ও মিনারেল যুক্ত। বিশেষত চর্মরোগের সকল পর্যায় নিরাময়ে সাহায্য করে এই গোলপাতার ফল। এছাড়া গোল গাছের রস দিয়েও চর্মরোগের ঔষধ তৈরি করা হয়।
গোল গাছের শিকর পুঁড়িয়ে দাঁতের মাজন ও কচিপাতা থেকে দাঁতের বিভিন্ন রোগের প্রতিষেধক তৈরি করা হয়। গোল গাছ উপকূলবর্তী এলাকার প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষায় বিরাট ভূমিকা পালন করে। এ কারনে গাছটি বিস্তারে নানা উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।
Comment / Reply From
You May Also Like
Latest News
Vote / Poll
ফিলিস্তিনের গাজায় ইসরায়েলি বাহিনীর নির্বিচার হামলা বন্ধ করতে জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উদ্যোগ যথেষ্ট বলে মনে করেন কি?
হ্যাঁ
না
মন্তব্য নেই
0%
0%
0%
Popular Posts
Archive
Please select a date!
Submit

