ডার্ক মোড
Tuesday, 23 June 2026
ePaper   
Logo
ঈদ আর এলাকার রাজনীতি করতে গ্রামের পথে রাজনীতিকরা

ঈদ আর এলাকার রাজনীতি করতে গ্রামের পথে রাজনীতিকরা

 

 

অন্যান্য শ্রেণিপেশার মতো ঈদ করতে গ্রামে ফিরছেন রাজনীতিকরাও।

অধিকাংশ রাজনীতিক বলেছেন, তাদের কাছে ঈদ শুধু দীর্ঘ দিন পরে নিজ এলাকায় ফেরার উপলক্ষ নয়, এটা স্থানীয়দের সঙ্গে তাদের দেখা-সাক্ষাতের বড় সুযোগও।

বিভিন্ন দলের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, রাজনীতিকদের কেউ কেউ ঈদের আগেই নিজ এলাকায় ফিরবেন। কেউ কেউ রওনা হবেন ঢাকায় ঈদের নামাজ আদায়ের পরে।

 

আবার ঈদে ঢাকাতেই থাকছেন, এমন রাজনীতিকের সংখ্যাও কম নয়।

বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বলেন, “এখনও আমাদের অধিকাংশের শেকড় গ্রামে। ফলে সবাই গ্রামে যেতে চাই। এই মানসিকতায় খুব বেশি পরিবর্তন হয়নি।

“অনেকে ঈদের আগে গ্রামে যান, অনেকে পরে যান। ঢাকায় যারা থাকেন, তারা খানিকটা বাধ্য হয়ে বা অবকাশের জন্য থাকেন।”

 

বিএনপির একাধিক জ্যেষ্ঠ নেতা, অনেক মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী ও সংসদ সদস্য ঢাকায় ঈদ উদযাপনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

বুধবার দুপুরে দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ঈদের দিন সকাল ১০টায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

দলটির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে কূটনীতিক, সংসদ সদস্য, মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী, বিশিষ্ট নাগরিক, আলেম, সরকারি উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা অংশগ্রহণ করবেন।”

বিএনপির অন্য জ্যেষ্ঠ নেতাদের মধ্যে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী চট্টগ্রামে ঈদ করবেন।

চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে রয়েছেন দলের আরেক জ্যেষ্ঠ নেতা ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা মির্জা আব্বাস।

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু ঢাকায় ঈদ করে পরে গ্রামের বাড়ি সিরাজগঞ্জে যাবেন।

প্রায় দেড় যুগ পর দেশের মাটিতে ঈদ করছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ফাইল ছবি 

ঢাকায় বিএনপির কর্মসূচির বিষয়ে শায়রুল কবির খান বলেন, ঈদ জামাতের পর তারেক রহমানের নেতৃত্বে দলের জ্যেষ্ঠ নেতারা জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার কবর জিয়ারত করবেন।

“তারপর অনেকেই নিজ গ্রামের বাড়ি যাবেন স্থানীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ নাগরিকদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করার জন্য।”

‘জামায়াতের অধিকাংশ নেতার ঈদ গ্রামে’

গ্রামে ঈদ করছেন সংসদের বিরোধী দল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর অধিকাংশ নেতা।

দলের প্রচার বিভাগ থেকে বলা হয়েছে, জামায়াত আমির ও সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান তার নির্বাচনি এলাকা ঢাকা-১৫ আসনে ঈদের নামাজ পড়বেন। নামাজের পর সবার সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন তিনি।

পরের দিন সিলেট মহানগর ও জেলা জামায়াতে ইসলামীর ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন তিনি।

এরপর ঈদুল ফিতরের তৃতীয় দিন তিনি মৌলভীবাজার জেলার কুলাউড়া উপজেলার ভাটেরা ইউনিয়নে আয়োজিত ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করবেন।

জামায়াতের জ্যেষ্ঠ নেতাদের মধ্যে নায়েবে আমির এটিএম আজহারুল ইসলাম ঢাকায়, মুজিবুর রহমান রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে, সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহের ঢাকায়, শামসুল ইসলাম চট্টগ্রামের সাতকানিয়া এবং সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার খুলনার খানজাহান আলীতে ঈদ উদযাপন করবেন।

জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান। ফাইল ছবি।

অন্যদের ঈদ কোথায়

ঢাকার বারিধারায় ঈদের নামাজ পড়বেন বলে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানিয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি— বিজেপির চেয়ারম্যান আন্দালিভ রহমান পার্থ।

গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকিও ঢাকাতেই ঈদের নামাজ পড়বেন।

গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি ও প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর ঢাকায় ঈদের নামাজ পড়বেন বলে জানিয়েছেন।

সিপিবির সভাপতি কাজী সাজ্জাদ জহির চন্দন, সাবেক সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম ও সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ ক্বাফী রতন ঢাকায় ঈদ করছেন বলে দলের একজন নেতা জানান।

সিপিবির সাবেক সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স খুলনায় ঈদের নামাজ পড়বেন। ঢাকায় ঈদ করবেন বাংলাদেশ ন্যাপ চেয়ারম্যান জেবেল রহমান।

অন্যান্য নেতাদের মধ্যে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হক সৌদি আরবে গেছেন ওমরা করতে।

দলের প্রচার সম্পাদক হাসান জুনাইদ বলেন, “দলের সিনিয়র নায়েবে আমির ইউসুফ আশরাফ ঢাকার ইসলামবাগ কেন্দ্রীয় ঈদগাহে নামাজ আদায় করবেন। লালবাগস্থ বাসায় নেতাকর্মীদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করবেন তিনি।”

হাসান জুনাইদ জানান, মহাসচিব জালালুদ্দীন আহমদ নিজ এলাকা শরীয়তপুরের জাজিরা পালেরচর বাজার কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠে ঈদের নামাজে ইমামতি করবেন।

জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের সভাপতি মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুক ভারতের দেওবন্দে অবস্থান করছেন। ঈদের সময় তিনি সেখানেই থাকবেন।

দলের প্রচার বিভাগের নেতা ইমরানুল বারী সিরাজী বলেন, “মহাসচিব মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দী নীলফামারিতে নিজ এলাকায় ঈদের নামাজ পড়বেন।”

 

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সহকারী মহাসচিব আহমদ আবদুল কাইয়ূম বলেন, দলের আমির সৈয়দ রেজাউল করীম বরিশালের চরমোনাইতে ঈদের নামাজ আদায় করবেন।

এছাড়া খেলাফত মজলিসের মহাসচিব আহমদ আবদুল কাদের, ইসলামী গণতান্ত্রিক পার্টির চেয়ারম্যান এম এ আউয়াল ও মহাসচিব নুরুল ইসলাম খান ঢাকায় ঈদ জামায়াতে শরিক হওয়ার কথা রয়েছে।

উৎসব কতটা?

ঈদে রাজনীতিকদের আচার নিয়ে গণতন্ত্র মঞ্চের নেতা সাইফুল হকের ভাষ্য, “এখন আনুষ্ঠানিকতা বেশি, অন্তরের টানে সম্ভবত টান পড়েছে। রাজনীতিকদের পারিবারিকভাবে শুভেচ্ছবিনিময় হয়।

“তবে ইনফরমালি ‘গসিপ’ করা, গল্প করা, সেটা মনে হচ্ছে কম।”

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর দেশে ‘অনেকটা স্বস্তি’ বিরাজ করছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, “নতুন সরকারের প্রথম ঈদযাত্রা মোটামুটি স্বস্তিদায়ক। সরকার প্রথম দিন থেকে চেষ্টা করছে। রাতারাতি তো ম্যাজিক দেখানো যাবে না।”

জুলাই অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর এ নিয়ে তৃতীয়বারের মতো ভিন্ন প্রেক্ষাপটে ঈদ উদযাপন করছেন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা।

দলটির অনেক নেতা আত্মগোপনে আছেন, কেউ আছেন কারাগারে, কেউ নানা মামলা মাথায় নিয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। তবে সদ্য বিদায়ী অন্তর্বর্তী সরকারের তুলনায় বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের সময় দলের নেতাকর্মীদের কিছুটা ‘উৎফুল্ল’ আছেন বলে মনে করেন কেউ কেউ।

ঢাকা কলেজ ছাত্রলীগের সাবেক এক জ্যেষ্ঠ নেতা বলেন, “আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা ইউনূসের শাসনামলের চেয়ে কিছুটা উৎফুল্ল।। তবে কোথাও-কোথাও এখনো ইউনূসের শাসনামলের মতই অবস্থা রয়েছে।”

তিনি বলেন, “নেতাকর্মীরা ইফতার অনুষ্ঠান করে কিছুটা চাঙ্গা আছেন। এছাড়া স্থানীয় দায়িত্বশীলরা ও দলের প্রবাসী শুভাকাঙ্ক্ষীরা মিলে তৃণমূল নেতাকর্মীদের জন্য ঈদ উপহার পাঠিয়ে তাদের চাঙ্গা করার চেষ্টা করছেন।”

মন্তব্য / থেকে প্রত্যুত্তর দিন

আপনি ও পছন্দ করতে পারেন