আদালতে মামলা তদন্ত করছে সিআইডি বন্দর লক্ষণখোলায় আমানুলের প্রতারণা
নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি
নারায়ণগঞ্জ জেলার বন্দর উপজেলার লক্ষণখোলা এলাকার কয়েকটি পরিবারের সাথে প্রতারনা করায় বাংলাদেশ জাতীয় সমবায়ের সাবেক পরিচালক প্রতারক ভূমিদস্যু আমানুলের বিরুদ্ধে নারায়ণগঞ্জে আদালতে ৪২০,৪০৬ ও ৫০৬ ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলাটি তদন্তের দায়িত্ব পেয়েছে সিআইডি।
১৯৯৭ সালে আখতার হোসেন আমানুলের ষড়যন্ত্রের শিকার হয়ে মিথ্যা ও বানোয়াট একটি মামলায় অনেক বড় ক্ষতির শিকার হয়েছেন। ২০০১ সাল থেকে প্রতারক আমানুল হক দীর্ঘ ২২ বছর পালিয়ে থাকার পর আখতার হোসেন গত ২০২৩ সালে আমানুলের সন্ধান পেয়ে তাঁর পূর্বের পাওনা চাইতে গেলে এবং তাঁর পূর্বের দেখানো আমমোক্তার নামা দেখাতে বললে প্রতারক আমানুল তাকে নানান রকম হুমকি ধমকির মাধ্যমে ভয় দেখান।
এতে করে আখতার সাবেক এমপি সাবের হোসেন চৌধুরীর ম্যানাজার মোঃ জহিরুল ইসলামের সাথে যোগাযোগ করে সবকিছু জানান এবং এ সংক্রান্ত জাবতীয় কাগজপত্র তাঁর হোয়াটস অ্যাপে পাঠাতে বললে পাঠান। কয়েকদিন পরে জহিরুল ইসলামের নিকট থেকে রহস্যজনক উত্তর পেলে সাংবাদিক আখতার হোসেন বীর মুক্তিযোদ্ধা এডভোকেট মোঃ নুরুল হুদাকে বিষয়টি অবগত করেন।
গত ২৮ নভেম্বর /২০২৪ইং তারিখে বন্দর থানার উত্তর লক্ষন খোলার স্থানীয় কয়েকজন গরীব খেটে খাওয়া মানুষের সাথে আমানুল প্রতারনা করলে এবং চাদা দাবীর মতো গর্হিত অপরাধ করলে স্থানীয় দৈনিক পত্রিকায় একটি অনুসন্ধানী সংবাদ প্রকাশিত হয়। এবং ১০/১২/২৪ ইং তারিখ সকাল ১০ টায় আখতার হোসেন বীর মুক্তিযোদ্ধা এড. মোঃ নুরুল হুদা কতৃক তাঁর পাওনা টাকা বা তাঁর পাওনা টাকার পরিবর্তে জমি চেয়ে একটি উকিল নোটিশ পাঠান।
১৫ দিন পর ১০/১২/২৪ খ্রিঃ রাত আনুমানিক ৮ টায় আমানুল হক তাঁর সাথে কিছু সন্ত্রাসী নিয়ে দৈনিক সচেতন পত্রিকা অফিসে প্রতিবাদ দেয়ার নাটক সাজিয়ে সাংবাদিক আখতার হোসেনকে খোজাখুজি করেন এবং লিখিতভাবে বিভিন্ন হুমকি ধমকি প্রদান করে। সাংবাদিক আখতার হোসেন পরদিন বন্দর থানায় হাজির হয়ে তাঁর এবং তাঁর পরিবারের নিরাপত্তা চেয়ে ভূমি দস্যু আমানুল ও ৭/৮ জন অজ্ঞাত সন্ত্রাসীর বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
পরদিন সকাল দশটায় অভিযোগের তদন্তে আশা এস আই ফজলুল হককে সামনে পেয়ে ভূমি দস্যু আমানুল হক দ্বারা নির্যাতিত উত্তর লক্ষন খোলার অনেক ভুক্ত ভোগী তাদের নির্যাতন ও দুঃখ দুর্দশার বক্তব্য তুলে ধরেন । পুলিশ চলে যাওয়ার কিছুক্ষণ পর আখতার হোসেন জানতে পান যে, আমানুল তাঁর প্রজেক্ট দেখতে এলাকায় এসেছেন। সাথে সাথে আখতার হোসেন কয়েকজন ভুক্ত ভোগী কে সঙ্গে করে তার সাথে দেখা করেন এবং তাঁর ১৪ শতাংশ জমির পাওনা টাকা জমির বর্তমান রেটে ফেরত চান, নতুবা যেই জমি দেখিয়ে টাকা নিয়েছিল সেই জমি ফিরিয়ে দিতে অনুরোধ করেন।
এ সময় প্রতারক আমানুল ক্ষিপ্ত হয়ে তাঁর সকল দায় অস্বীকার করে আরও নানা ধরনের হুমকি ধমকি প্রদান করেন এবং এলাকার সাধারণের কাছ থেকেও মোটা অংকের চাঁদা দাবী করেন। পরে আখতার হোসেন তাঁর অভিযোগের তদন্ত কর্মকর্তা বন্দর থানার এস আই ফজলুল হককে বিষয়টি ফোনে জানালে তিনি জানান আমানুল হক আমার একবারও ফোন রিসিভ করেননি, তবে এ লোকের বিরুদ্ধে আপনাদের আদালতের আশ্রয় নেয়া খুব জরুরি বলে জানান।
পরবর্তীতে গত ৩০/১২/২০২৪ খ্রিঃ নারায়গঞ্জ বিজ্ঞ চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আমলি-৬ নং আদালতে ৪২০/৪০৬/৫০৬ নং দঃবিঃ অপরাধের ধারায় মামলা দায়ের করেন সিনিয়র সাংবাদিক আখতার হোসেন। মামলাটি বর্তমানে নারায়ণগঞ্জ সিআইডির সাব ইনস্পেক্টর গোপাল দত্ত তদন্ত করছেন।
Comment / Reply From
You May Also Like
Latest News
Vote / Poll
ফিলিস্তিনের গাজায় ইসরায়েলি বাহিনীর নির্বিচার হামলা বন্ধ করতে জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উদ্যোগ যথেষ্ট বলে মনে করেন কি?

