অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড: সুন্দরবনে অস্ত্রসহ কুখ্যাত ‘জনাব বাহিনী’র ৩ ডাকাত আটক
স্টাফ রিপোর্টার
সাতক্ষীরা: সুন্দরবনে এক বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে কুখ্যাত ডাকাত দল "জনাব বাহিনী"র তিন সক্রিয় সদস্যকে আগ্নেয়াস্ত্র ও গোলাবারুদসহ আটক করেছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড। বুধবার সকালে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বর্তমান সরকারের নির্দেশনায় সুন্দরবন অঞ্চল থেকে বনদস্যু ও ডাকাত দল সম্পূর্ণ নির্মূল করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড দুটি বিশেষ অভিযান—"অপারেশন রিস্টোর পিস ইন সুন্দরবন" এবং "অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড" পরিচালনা করছে। এরই ধারাবাহিকতায় "অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড"-এর আওতায় এই তিন সক্রিয় ডাকাতকে গ্রেপ্তার করা হয়।
কোস্ট গার্ড সূত্র জানায়, সাতক্ষীরার শ্যামনগর থানার অধীনস্থ কালিনঞ্চ স্লুইস গেট এলাকায় কুখ্যাত জনাব বাহিনীর সদস্যরা অবস্থান করছে—এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গতকাল মঙ্গলবার (৯ জুন, ২০২৬) সন্ধ্যা আনুমানিক ৬টার দিকে কৈখালী কোস্ট গার্ড স্টেশনের একটি বিশেষ দল সেখানে অভিযান চালায়। প্রাথমিক এই অভিযানে গ্যাংটির তিন সক্রিয় সদস্যকে সফলভাবে আটক করা হয়।
পরবর্তীতে, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটককৃত ডাকাতদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একই রাতে আনুমানিক ১১টার দিকে শ্যামনগর থানার হরিণটানা খালের পাশ্ববর্তী এলাকায় আরেকটি সম্পূরক অভিযান চালায় কোস্ট গার্ড। এই দ্বিতীয় অভিযানে একটি একনলা বন্দুক এবং দুই রাউন্ড তাজা কার্তুজ উদ্ধার করা হয়।
আটককৃতরা হলেন—আজিবর গাজী (৪৭), রবিউল গাজী (৪৪) এবং ফারুক হোসেন (৩৬)। তারা সবাই সাতক্ষীরা জেলার শ্যামনগর উপজেলার বাসিন্দা। কোস্ট গার্ডের পক্ষ থেকে জানানো হয়, এই ব্যক্তিরা দীর্ঘদিন ধরে জনাব বাহিনীর সক্রিয় সদস্য হিসেবে সুন্দরবনে ডাকাতি এবং সাধারণ জেলে ও বাওয়ালিদের (কাঠুরে) জিম্মি করে মুক্তিপণ আদায় করে আসছিল।
উদ্ধারকৃত আগ্নেয়াস্ত্র, গোলাবারুদ এবং আটককৃত ডাকাতদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের প্রক্রিয়া বর্তমানে চলমান রয়েছে।
মিডিয়া কর্মকর্তা উল্লেখ করেন, কোস্ট গার্ডের ধারাবাহিক ও কার্যকর অভিযানের কারণে কিছু স্থানীয় কায়েমি স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী এবং অসৎ মহল বিভ্রান্তিকর ও ভিত্তিহীন গুজব ছড়িয়ে বাহিনীর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার এবং অপরাধ দমন কার্যক্রমকে প্রশ্নবিদ্ধ করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। তিনি দৃঢ়তার সাথে বলেন, এ ধরনের উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার সত্ত্বেও দস্যু দমনে কোস্ট গার্ডের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
সুন্দরবনকে সম্পূর্ণ নিরাপদ ও দস্যুমুক্ত রাখতে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের নিয়মিত অভিযান এবং গোয়েন্দা নজরদারি ভবিষ্যতেও সক্রিয় থাকবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।

