Dark Mode
Monday, 22 June 2026
ePaper   
Logo
লক্ষ্মীপুরে কোরবানির পশুর হাটে ২৫ গুণ বেশি হাসিল আদায়

লক্ষ্মীপুরে কোরবানির পশুর হাটে ২৫ গুণ বেশি হাসিল আদায়

লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি


কোরবানির ঈদকে কেন্দ্র করে সরকার নির্ধারিত হাসিলের চেয়ে ২৫গুণ বেশী টাকা আদায় করছে হাট ইজারাদাররা। যদিও এ বছর করোনা ভাইরাসের কারণে হাট-বাজার ইজারা দেয়া হয়নি। তবুও রাজনৈতিক নেতারা তাদের ইচ্ছেমতো স্কুল কলেজ মাঠ দখল করে এমনকি চলাচলের রাস্তা মহাসড়ক দখল করে কোরবানির পশুর হাট বসিয়ে আদায় করছেন মাত্রা অতিরিক্ত টাকা। এমনিতেই তাদের দৌরাত্ম্য থাকে লাগামছাড়া। আর ঈদকে সামনে রেখে এর মাত্রা যেন আরো বেড়ে যায় কয়েকগুন।

এটা তো গেল হাসিলের টাকা। এছাড়া কোনো কোনো হাটে হাসিলের পাশাপাশি নেয়া হয় মাঠ ভাড়াও। কোরবানি ছাড়া জেলার ৫টি উপজেলা ও ১টি থানায় সাপ্তাহিক প্রায় ১৫০টি ছোট বড় হাট ও বাজারে পশু বিকিবিনি হয়। তবে কোরবানি উপলক্ষে পশু বিক্রির বাজারের সংখ্যা আরো বেড়ে যায় কয়েকগুণ। আর ওইসব হাটে চলে মনমতো হাসিল আদায়ের মহা উৎসব।

লক্ষ্মীপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে যোগাযোগ করলে প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার সাথে যোগাযোগ করতে বলেন। এদিকে প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন যে উপজেলা প্রশাসন জানেন। তাহলে হাসিলের বিষয়টি জানেন কে?

একটি সূত্রে জানা গেছে, জেলার সব পশুর হাট থেকে প্রত্যেক গরু ও মহিষ প্রতি সর্বোচ্চ ২০০ টাকা, ছাগল কিংবা ভেড়া থেকে সর্বোচ্চ ৭৫ টাকা হাসিল আদায় করতে পারবেন ইজারাদার।

এমন একটি সিটিজেনচার্টার বা হাসিল আদায়ের তালিকা গরুর বাজারের প্রদর্শিত স্থানে টাঙিয়ে রাখার কথা। কিন্তু কোন গরুর বাজার আয়োজক বা উদ্যোক্তা এমনটি করেননি।

নিমানুযায়ী টোল ঘরে কিংবা হাটের কোন এক যায়গায় জেলা প্রশাসক নির্ধারিত গরু, ছাগল, মহিষ, ভেড়া কিংবা অন্যান্য পশু বিক্রির হাসিলের পরিমাণ উল্লেখ করে তালিকা টানিয়ে দেয়ার বিধান থাকলেও সেই তালিকা কোনো হাট-বাজারে কোথাও খুঁজে পাওয়া যায়নি। ফলে ক্রেতারা জানেন না ক্রয় বা কেনা পশুর সরকার নির্ধারিত হাসিল কত? এবার পৃথিবীব্যাপী মহামারী কোভিড ১৯ বা করোনা ভাইরাস সংক্রমণের ফলে লকডাউনের আওতায় থাকায় গরুর হাট, বাজারকে প্রশাসন কর্তৃক ইজারা না দেওয়ায় যে যার মত ক্রেতা-বিক্রেতাকে চাপ প্রয়োগ করে হাসিল আদায় করছে।

লক্ষ্মীপুর চন্দ্রগঞ্জ থানার মান্দারী বাজারে সোমবার মান্দারী বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিতব্য কোরবানির পশুর হাটে গিয়ে দেখা যায় আরও দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনা। সেখানে পশু ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়কে হাসিল দিতে হয়। কেউ একজন হাসিল দিতে অপারগ হলে তাকে অপমান করাসহ মারতে উদ্যত হয় আয়োজকরা।

উঠতি নেতা সোহরাব হোসেন রুবেল পাটওয়ারির সাথে এ বিষয়ে কথা হলে তিনি কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি এবং ব্যস্ত আছেন বলে এড়িয়ে যান। যারা জোরপূর্বক উভয় পক্ষ থেকে হাসিল আদায় করছেন তারা বলেন, সকল ক্ষমতার উৎস সোহরাব হোসেন রুবেল পাটওয়ারি।

এছাড়া হাসিল নিয়ন্ত্রণে জেলা কিংবা উপজেলা প্রশাসনের কোনো তদারকি না থাকায় ইজারাদাররা তাদের ইচ্ছানুযায়ী কোরবানির পশু বিক্রির হাসিল আদায় করছেন। অধিক টাকার হাসিল নিয়ে কেউ প্রতিবাদ করলে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিতসহ অপমান অপদস্ত হতে হয় ক্রেতাদের। এ কারণে অনিয়ম হলেও হাসিল নিয়ে কেউ বিতর্কে জাড়ায় না ইজারাদারের সঙ্গে।

সরেজমিনে বিভিন্ন পশু বিক্রির হাট ঘুরে দেখা গেছে, হাসিল বাণিজ্যের মহা উৎসব চলছে। কোন কোন বাজারের গুরুত্বপূর্ণ স্থান বিদ্যালয় মাঠ কি যান চলাচলে গুরুত্বপূর্ণ ব্যস্ত সড়ক দখল করে গড়ে উঠেছে লক্ষ্মীপুরে এই পশুর হাট। সদর উপজেলাসহ কয়েকটি গরুর বাজার ঘুরে ও চন্দ্রগঞ্জ থানার মান্দারীর গরুরহাটে হাসিল আদায়ে দেখা গেছে নানা অনিয়ম। মো. মোকলেছ নামে এক ব্যক্তি ৪৬ হাজার ৫০০ টাকায় একটি গরু কেনেন। তার কাছ থেকে হাসিল রাখা হয় ১৫০০ টাকা। ৭০ হাজার টাকার গরুতে আড়াই হাজার থেকে তিন হাজার টাকা, ১ লাখ টাকা এবং তদুর্ধ দামের গরুতে দিতে হয় পাঁচ হাজার টাকা পর্যন্ত হাসিল। কোন কোন ক্ষেত্রে ক্রেতা বিক্রেতা উভয়কেই হাসিল দিতে হয়। এদিকে ছাগলের বাজারে সর্বনিম্ন ৫০০ টাকা থেকে ২০০০ টাকা পর্যন্ত আদায় হাসিল করছে আয়োজকরা।

ওই গরুরহাটে পশু কিনতে আসা একাধিক ক্রেতার সঙ্গে কথা হয়। তারা হাসিল আদায়ে ইজরাদারদের নিয়ন্ত্রণের জন্য প্রশাসনের মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানান।

তবে জেলা প্রশাসনের একটি সূত্র জানান, সব হাটগুলোতে সরকারদলীয় লোকজন ইজারা নেয়ার কারণে ইচ্ছে থাকা স্বত্ত্বেও প্রশাসন ইজারাদারদের অনিয়মের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারছেন না। এদের বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করলে রাজনৈতিক নেতারা তদবির করে তা বন্ধ করে দেন। ফলে যে যার মতো করে ইজারা আদায়ে অনিয়ম করছে।

জেলার কয়েকটি উপজেলার প্রসিদ্ধ হাটে খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে ইজারা আদায়ে একই চিত্র। রামগঞ্জ, রায়পুর, কমলনগর ও চন্দ্রগঞ্জ থানারর গরুর বাজার, সর্বোচ্চ ৫০০০ টাকাও নেয়া হয় গরু বিক্রির হাসিল।

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ মাসুম বলেন, ‘জেলার আইনশৃঙ্খলা ও উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির সভায় এ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।

যাতে ইজারাদাররা কোনোভাবে বাড়তি টাকা নিতে না পারে এ জন্য সব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। সুনির্দ্দিষ্ট অভিযোগ পেলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

Comment / Reply From

You May Also Like

Vote / Poll

ফিলিস্তিনের গাজায় ইসরায়েলি বাহিনীর নির্বিচার হামলা বন্ধ করতে জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উদ্যোগ যথেষ্ট বলে মনে করেন কি?

View Results
হ্যাঁ
0%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%

Archive

Please select a date!