বরগুনা প্রেসক্লাবের কালো দিবসে নিন্দা ও ঘৃনা সমাবেশ
অলিউল্লাহ্ ইমরান, বরগুনা
দুর্নীতিবাজ ও স্বেচ্ছাচারী আওয়ামী এমপি গোলাম সরোয়ার টুকু ও তার সন্ত্রাসী বাহিনী কর্তৃক ঐতিহ্যবাহী বরগুনা প্রেসক্লাবে নগ্ন হামলা ও ষড়যন্ত্রের মামলার একবছর উপলক্ষ্যে সমাবেশ অনুষ্ঠিত।
বুধবার (১৯ ফেব্রুয়ারী) সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় বরগুনা প্রেসক্লাব মিলনায়তনে কালো দিবস আখ্যায়িত করে নিন্দা ও ঘৃণা সমাবেশ করেছে বরগুনা প্রেসক্লাব।
বরগুনা প্রেসক্লাবের সভাপতি অ্যাড. সোহেল হাফিজের সভাপতিত্বে এ সমাবেশে দেশের গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন গণমাধ্যমে কর্মরত বরগুনা প্রেসক্লাবের সদস্য ও সহযোগী সদস্যবৃন্দ ছাড়াও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
নিন্দা ও ঘৃণা সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বরগুনা প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি প্রবীণ সাংবাদিক চিত্তরঞ্জন শীল, জহিরুল হাসান বাদশা, জাকির হোসেন মিরাজ, মনির হোসেন কামাল, সহ-সভাপতি মোঃ হাফিজুর রহমান সাধারণ সম্পাদক আবু জাফর সালেহ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আঃ মালেক মিঠু, অর্থ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবীর মৃধা, সদস্য সহিদুল ইসলাম স্বপ্ন, সহযোগী সদস্য কাশেম হাওলাদার, হাওলাদার সোহাগ,আসাদ সবুজ প্রমুখ।
বক্তারা বলেন, সাবেক সংসদ সদস্য গোলাম সরোয়ার টুকুর পৃষ্ঠপোষকতায় একটা চক্র বরগুনায় অপসাংবাদিকতার মাধ্যমে চাঁদাবাজিসহ নানা অপকার্যকলাপ চালিয়ে আসছে। তাদের এসব অপকর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়ায় বরগুনা প্রেসক্লাব ও বরগুনা প্রেসক্রাবের সদস্যদের বিরুদ্ধে প্রতিনিয়ত বিষোদগার অব্যাহত রেখেছে।
গত বছর ১৯ ফেব্রুয়ারি বরগুনা প্রেসক্লাবের অধিকাংশ সদস্য যখন শিক্ষা সফর উপলক্ষে কলকাতা প্রেসক্লাবের সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় করছিলেন তখন পূর্বপরিকল্পিতভাবে দুর্নীতিবাজ ও স্বেচ্ছাচারী আওয়ামী এমপি গোলাম সরোয়ার টুকুর প্রত্যক্ষ মদদে ৪০ থেকে ৫০ জনের একটি সন্ত্রাসী দল বরগুনা প্রেসক্লাবে হামলা চালায়। এ সময় তারা প্রেসক্লাব দখলে নেয়ার অপচেষ্টা চালায়। একাধিক সদস্য ও সহযোগী সদস্যকে লাঞ্ছিত করে।
এ ঘটনায় বরগুনা প্রেসক্লাবের সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক জাফর হোসেন হাওলাদার বাদী হয়ে দ্রুত বিচার আইনে ১৭ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগ আমলে নিয়ে বরগুনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এফআইআর এবং পিবিআই তদন্তের জন্য নির্দেশ দেন বরগুনার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত।
এ ঘটনার ১৩ দিন পরে হামলাকারীদের একজন মাসুদ তালুকদারের হৃদরোগে স্বাভাবিক মৃত্যু হলে সেই ডেথ সার্টিফিকেট লুকিয়ে পাল্টা মামলা হিসেবে বরগুনা প্রেসক্লাবের সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়ের করে হামলাকারীরা। এ মামলায় বরগুনা প্রেসক্লাবের ১২ জন সাংবাদিককে আসামি করা হয়। এ মামলায় দুমাসেরও বেশি সময় কারাবন্দী থাকতে হয় বরগুনা প্রেসক্লাবের ১০ জন সাংবাদিককে।
বক্তারা বলেন, বরগুনা প্রেসক্লাব থেকে বারবার বহিষ্কৃত সদস্য মুশফিক আরিফ, হারুন অর রশীদ রিঙ্কু এবং মাসুদ তালুকদারেরর নেতৃত্বে এ হামলার ঘটনা ঘটে। কাল দিবস উপলক্ষে তীব্র নিন্দা ও ঘৃণা সমাবেশে তথাকথিত ওই সংবাদ কর্মীদের প্রতি তীব্র নিন্দা ও ঘৃণা প্রকাশ করা হয়।
বক্তারা বলেন, বরগুনা প্রেসক্লাব থেকে সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে বহিষ্কৃত দু’জন সদস্যকে সঙ্গে নিয়ে দুর্নীতিবাজ আওয়ামী সংসদ সদস্য গোলাম সরোয়ার টুকুর মদদে বরখাস্তকৃত সদস্য মুশফিক আরিফ বরগুনা প্রেসক্লাবের সুনাম ও মর্যাদা ক্ষুণ্ণ করার অসৎ উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে এ হামলার ঘটনা ঘটনোর পাশাপাশি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে সরাসরি লাইভ দিয়ে এবং বিচ্ছিন্নভাবে বরগুনা প্রেসক্লাবের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালিয়ে সাধারণ জনগণের মাঝে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে।
বক্তারা আরো বলেন, প্রেসক্লাবের উপর হামলাকারী ওই কুচক্রিমহল এখনো থেমে নেই। তারা প্রতিনিয়তই প্রেসক্লাবের সভাপতি সম্পাদকসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ গণমাধ্যম কর্মীদের চরিত্রহননসহ বরগুনা প্রেসক্লাবের ভাবমূর্তি বিনষ্ট করার অপপ্রয়াস অব্যাহত রেখেছে। বক্তারা ষড়যন্ত্রকারীদের সকল প্রকার অপতৎপরতা রুখেদিতে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।
Comment / Reply From
You May Also Like
Latest News
Vote / Poll
ফিলিস্তিনের গাজায় ইসরায়েলি বাহিনীর নির্বিচার হামলা বন্ধ করতে জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উদ্যোগ যথেষ্ট বলে মনে করেন কি?

