জোয়ারের ক্ষতি কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টায় হাতিয়ার কৃষকেরা
সাব্বির ইবনে ছিদ্দিক, হাতিয়া (নোয়াখালী)
সাম্প্রতিক অস্বাভাবিক জোয়ার ও টানা বর্ষণে নোয়াখালীর উপকূলীয় দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার বিস্তীর্ণ নিচু এলাকা প্লাবিত হয়। হঠাৎ করে জোয়ারের পানি ঢুকে পড়ে শত শত একর আমন ধান ও বীজতলার জমি তলিয়ে যায়। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হন এলাকার বিপুলসংখ্যক কৃষক।
বর্তমানে পানি কিছুটা নামলেও মাটি এখনও কাদা-মাখা। তবুও পিছিয়ে যাননি কৃষকেরা। জীবনের প্রয়োজনে ও আসন্ন ফসল মৌসুমে ধান ঘরে তুলতে তারা নেমে পড়েছেন কঠিন লড়াইয়ে—ধানখেত পুনরুদ্ধারের কাজে।
উপজেলার নিঝুমদ্বীপ, চরঈশ্বর, নলচিরা, তমরুদ্দি, সুখচর ও মূল ভূখণ্ড থেকে আলাদা থাকা চরগুলোসহ বিভিন্ন ইউনিয়নের মাঠে মাঠে দেখা গেছে—কৃষকেরা হাঁটুসমান কাদা পেরিয়ে জমিতে কাজ করছেন। কেউ ভেঙে যাওয়া জমির বাঁধ মেরামত করছেন, কেউ নষ্ট হয়ে যাওয়া চারা তুলে নতুন করে রোপণ করছেন। কোথাও আবার জমিতে জমে থাকা পানি সরাতে কেটে দিচ্ছেন ছোট ছোট নালা।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্র জানায়, হাতিয়ায় এবার মোট ৪২,৯৬০ হেক্টর জমিতে ধান চাষ হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ২,৭০০ হেক্টর জমির ফসল আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কৃষি বিভাগ ইতোমধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা তৈরি করে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে প্রতিবেদন পাঠিয়েছে।জোয়ারে ফসলি জমির ক্ষয়ক্ষতির চিত্র (হেক্টর):
আউশ ধান — চাষ: ২৭,৩০০ | ক্ষতিগ্রস্ত: ১,৪০০
রোপা আমনের বীজতলা — চাষ: ৩,৯৫০ | ক্ষতিগ্রস্ত: ৪৮০রোপা আমন ধান — চাষ: ১১,৭১০ | ক্ষতিগ্রস্ত: ৮২০শাকসবজি (শরৎকালীন) — চাষ: ৪২০ | ক্ষতিগ্রস্ত: ২৬০
ফল বাগান — চাষ: ৪২৫ | ক্ষতিগ্রস্ত: ১২
পানের বরজ — চাষ: ৩২ | ক্ষতিগ্রস্ত: ৭
মরিচ চাষ — চাষ: ১২ | ক্ষতিগ্রস্ত: ২
চরঈশ্বর ইউনিয়নের কৃষক মো. জসিম উদ্দিন বলেন, “জোয়ারের পানিতে আমার ৫ বিঘা জমি প্লাবিত হয়েছে। অনেক চারা নষ্ট হয়ে গেছে। এখন নতুন করে রোপণ করছি। সময়মতো কাজ শেষ করতে না পারলে পুরো ফসল মৌসুমই হাতছাড়া হয়ে যাবে।
নিঝুমদ্বীপ ইউনিয়নের কৃষক শাহেদ বলেন, “অনেক জমিতে এখনও পানি জমে আছে। পানি না শুকালে চারা রোপণ করা যাচ্ছে না। দ্রুত পানি সরানো এবং বীজ-সারসহ কৃষি উপকরণে সরকারি সহায়তা পেলে কিছুটা ক্ষতি পুষিয়ে উঠতে পারতাম।
হাতিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আবদুল বাছেদ সবুজ বলেন, “আমরা মাঠপর্যায়ে ক্ষয়ক্ষতির তথ্য সংগ্রহ করছি। যেসব কৃষক নতুন করে চাষ করছেন, তাদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও বীজ সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। সময়মতো রোপণ নিশ্চিত করতে আমাদের টিম মাঠে কাজ করছে।”
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, প্রাকৃতিক দুর্যোগের ধাক্কা সামাল দিয়ে যেন কৃষকেরা সময়মতো ফসল ঘরে তুলতে পারেন, সে লক্ষ্যে সরকারি সহায়তা ও উদ্যোগ আরও জোরদার হওয়া প্রয়োজন।
Comment / Reply From
You May Also Like
Latest News
Vote / Poll
ফিলিস্তিনের গাজায় ইসরায়েলি বাহিনীর নির্বিচার হামলা বন্ধ করতে জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উদ্যোগ যথেষ্ট বলে মনে করেন কি?

