কুলিয়ারচরে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের মাঝে প্রতিমন্ত্রীর জরুরি ত্রাণ বিতরণ
ফরজানা আক্তার, কুলিয়ারচর প্রতিনিধি
কৃষিভিত্তিক জীবিকা সুরক্ষায় সরকারের কেন্দ্রীয় নির্দেশনার অংশ হিসেবে কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর উপজেলায় সাম্প্রতিক ক্ষয়ক্ষতিতে ক্ষতিগ্রস্ত ২৬৪ জন প্রান্তিক কৃষকের মাঝে জরুরি আর্থিক ও খাদ্য সহায়তা বিতরণ করেছেন বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মো. শরিফুল আলম। গ্রামীণ অর্থনীতির পুনরুজ্জীবন থিমকে সামনে রেখে কুলিয়ারচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইয়াসিন খন্দকারের সভাপতিত্বে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে এই বিতরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দিতে গিয়ে প্রতিমন্ত্রী মো. শরিফুল আলম ঘোষণা করেন যে, সাম্প্রতিক উৎপাদন ক্ষতি পুষিয়ে নিতে নিবন্ধিত ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকেরা আগামী টানা তিন মাস প্রতি মাসে ৩,০০০ টাকা করে নগদ প্রণোদনা পাবেন। কৃষিখাতকে জাতীয় উন্নয়নের মূল ভিত্তি হিসেবে উল্লেখ করে তিনি স্থানীয় কৃষকদের জন্য বিশেষ ‘কৃষি কার্ড’ প্রদানের একটি বড় নীতিগত উদ্যোগের কথা জানান। এই কার্ডের মাধ্যমে কৃষকেরা ভবিষ্যৎ চাষাবাদ সহজ করতে ভর্তুকি মূল্যে নির্দিষ্ট কোটায় সার, উচ্চ ফলনশীল বীজ এবং সার্বিক সরকারি কৃষি সম্প্রসারণ সুবিধা পাবেন। সরকারি বরাদ্দের পাশাপাশি প্রতিমন্ত্রী ব্যক্তিগত তহবিল থেকে অনুষ্ঠানস্থলে ২০০টি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ কৃষক পরিবারকে ১৫ কেজি করে চাল বিতরণ করেন।
বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী তার সংসদীয় আসনের জন্য একটি উচ্চাভিলাষী উন্নয়ন রূপরেখা তুলে ধরেন, যার মধ্যে একটি বিশেষায়িত মহিলা কলেজ, একটি আধুনিক টেক্সটাইল ইনস্টিটিউট এবং একটি বিশেষায়িত হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এছাড়া তিনি স্থানীয় মসজিদ, মন্দির ও ঈদগাহ ময়দানের কাঠামোগত সংস্কারের জন্য সরকারি তহবিল বরাদ্দের ঘোষণা দেন। স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির প্রসঙ্গে তিনি সম্প্রতি স্থানীয় তরুণী রামিশা হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানান। প্রতিমন্ত্রী এবং একজন অভিভাবক হিসেবে তিনি জনগণকে আশ্বস্ত করেন যে, প্রধানমন্ত্রীর প্রত্যক্ষ নজরদারিতে বিচার প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করে অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।
তবে প্রশাসনের সুবিধাভোগী নির্বাচন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিয়ে স্থানীয় কৃষকদের তাৎক্ষণিক আপত্তির মুখে পড়ে এই ত্রাণ কর্মসূচি। মো. জসিম, রজব আলী, ইজ্জত আলী ও রহমত আলীসহ একাধিক ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক অনুষ্ঠানস্থলে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ তুলে বলেন, মারাত্মক ফসলহানির শিকার হওয়া সত্ত্বেও সরকারি ত্রাণের তালিকায় তাদের নাম সম্পূর্ণ বাদ পড়েছে। সামাজিক নিরাপত্তা বলয়ের বাইরে থেকে যাওয়া প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত করতে তারা অবিলম্বে এই তালিকা সংশোধনের দাবি জানান।
ত্রাণ বিতরণ অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সহকারী পুলিশ সুপার আবু মুসা শেখ, কুলিয়ারচর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এম এ হান্নান, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী আরিফ উদ্দিন, পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শাহাদাত হোসেন শাহ আলম এবং উপ-সহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা আলী আকবর সেলিমসহ স্থানীয় কৃষক, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি ও সাংবাদিকবৃন্দ।
Comment / Reply From
You May Also Like
Latest News
Vote / Poll
ফিলিস্তিনের গাজায় ইসরায়েলি বাহিনীর নির্বিচার হামলা বন্ধ করতে জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উদ্যোগ যথেষ্ট বলে মনে করেন কি?

