
তাড়াইলে নবীন আলেম সংবর্ধনা ও ওলামা সম্মেলন অনুষ্ঠিত
তাড়াইল (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি:
জাতীয় ওলামা মাশায়েখ আইম্মা পরিষদ কিশোরগঞ্জের তাড়াইল উপজেলা শাখার উদ্যোগে নবীন আলেম সংবর্ধনা ও ওলামা সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৩ এপ্রিল) দুপুর ২টায় তাড়াইল-সাচাইল দারুল হুদা কাসেমুল উলূম মাদরাসা ময়দানে ১০০ জন নবীন আলেমকে সংবর্ধনা প্রদান ও ওলামা সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। জাতীয় উলামা মাশায়েখ আইম্মা পরিষদ তাড়াইল উপজেলা শাখার সভাপতি মাওলানা আব্দুর রউফ এর সভাপতিত্বে এবং মাওলানা হুমায়ুন আব্দুর রহিম ও মুফতি বেলায়েত হোসাইন এর সঞ্চালনায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, জাতীয় উলামা মাশায়েখ আইম্মা পরিষদের কেন্দ্রীয় শরীয়াহ বিষয়ক সম্পাদক মুফতি লুৎফুর রহমান ফরায়েজী। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ কিশোরগঞ্জ জেলা শাখার সভাপতি মাওলানা প্রভাষক আলমগীর হোসাইন তালুকদার। প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, জাতীয় উলামা মাশায়েখ আইম্মা পরিষদ কিশোরগঞ্জ জেলা শাখার সভাপতি মাওলানা মুফতি কফিল উদ্দিন।প্রধান অতিথি জাতীয় উলামা মাশায়েখ আইম্মা পরিষদের কেন্দ্রীয় শরীয়াহ বিষয়ক সম্পাদক মুফতি লুৎফুর রহমান ফরায়েজী বলেন, পবিত্র কালামে হাকীমে ইসলামকে একমাত্র ও অদ্বিতীয় জীবন বিধান হিসাবে ঘোষণা করা হয়েছে। এ আদর্শ কেউ পছন্দ করুক আর না করুক তা সকল আদর্শের ওপর বিজয়ী করার ঘোষণা দিয়েছেন স্বয়ং আল্লাহ রাব্বুল আলামীন। আল্লাহ তা’য়ালার ঘোষণা অনুযায়ী এ ভূমণ্ডলে শুধু ইসলামই বিজয়ী আদর্শ হিসাবে টিকে থাকবে, আর সকল বাতিল আদর্শ পরাভূত হবে। ইতিহাস পর্যালোচনায় দেখা যায়, অতীতে কোন জালিম, স্বৈরাচারী, ফ্যাসিবাদী ও আল্লাহদ্রোহী শক্তি দুনিয়ায় টিকে থাকতে পারেনি। ফেরাউন, নমরূদ, হামান, আবু জাহেল, আবু লাহাবরা দুনিয়াতে অনেক পরাক্রমী থাকলেও হক্বের কাছে তাদের রীতিমতো পরাভূত ও নিশ্চিহ্ন হতে হয়েছে। সে ধারাবাহিকতায় শেখ হাসিনাও টিকতে পারেনি বরং তাকে লজ্জাজনকভাবে পরাজিত হয়ে দলবলসহ প্রতিবেশী দেশে পালাতে বাধ্য হতে হয়েছে। মূলত, পৃথিবীতে হক্ব-বাতিলের দ্বন্দ্বই এক অলঙ্ঘনীয় বাস্তবতা। তাই বাতিল শক্তির অপতৎপরতা মোকাবেলায় আমাদের সব সময় সতর্ক থাকবে হবে। তিনি দেশকে ইসলামী কল্যাণ রাষ্ট্রে পরিণত করার আন্দোলনে সকলকে একদফায় ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান। অতিথি ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ কিশোরগঞ্জ জেলা শাখার সভাপতি মাওলানা প্রভাষক আলমগীর হোসাইন তালুকদার বলেন, আমরা দুনিয়াতে আল্লাহ তা’য়ালার প্রতিনিধি। বিশ্বনবী (সা.) আমাদের নেতা। মূলত, আল্লাহর বিধান ও রাসূল (সা.)-এর আদর্শ প্রতিষ্ঠার প্রাণান্তকর প্রচেষ্টা চালানো আমাদের দায়িত্ব। আর ইসলামী আন্দোলনের উপর জুলুম- নির্যাতন ইতিহাসের ধারাবাহিকতা মাত্র। তিনি আরও বলেন, নবীন আলেমদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, চর্চা করতে হবে বেশি বেশি করে। কিতাবুল্লাহ পাঠের পাশাপাশি রিজালুল্লাহকে ধারণ করতে হবে। নবীগণ হলেন 'রিজালুল্লাহ। ' এই রিজালুল্লাহ আল্লাহ তা'আলা পাঠিয়েছেন উম্মতকে কিতাবুল্লাহ বুঝিয়ে দেয়ার জন্য। তিনিই সেই মহান সত্তা, যিনি সাধারণ জনগোষ্ঠীর মধ্য থেকে তাদেরই একজনকে রাসূল করে পাঠিয়েছেন, যিনি তাদেরকে আল্লাহর আয়াতসমূহ পড়ে শোনাবেন, তাদের জীবনকে পরিশুদ্ধ করবেন এবং তাদেরকে সে অনুযায়ী চলার কৌশল শিক্ষা দিবেন। সাহাবায়ে কেরামদের সাথে যারা নেতিবাচক ধারণা পোষণ করবে তাদের সংস্রব ত্যাগ করার জন্যাও তিনি সকলের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানান।বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে আরও বক্তব্য রাখেন মাওলানা হিফজুর রহমান খান, মাওলানা ফয়েজ উদ্দিন, মাওলানা এনামুল হক (বড় হুজুর), মুফতি মুসলেহ উদ্দিন, মাওলানা নজির আহমদ, মাওলানা ফরিদ উদ্দিন, মাওলানা কাজি উদ্দিন, মাওলানা বোরহান উদ্দিন, মাওলানা কুতুব উদ্দিন সাহেব, মাওলানা আব্দুল হাই, হাফেজ মাওলানা শেখ সাইফুল ইসলাম, মাওলানা এনামুল হক প্রমূখ।
মন্তব্য / থেকে প্রত্যুত্তর দিন
আপনি ও পছন্দ করতে পারেন
সর্বশেষ
জনপ্রিয়
আর্কাইভ!
অনুগ্রহ করে একটি তারিখ নির্বাচন করুন!
দাখিল করুন