ডার্ক মোড
Thursday, 29 February 2024
ePaper   
Logo
সেক্টর কমান্ডারস ফোরামের বিজয় দিবস উদযাপন

সেক্টর কমান্ডারস ফোরামের বিজয় দিবস উদযাপন

নিউইয়র্ক (যুক্তরাষ্ট্র) প্রতিনিধি

সেক্টর কমান্ডারস ফোরাম-মুক্তিযুদ্ধ’৭১ এর যুক্তরাষ্ট্র শাখার বিজয় সমাবেশ হয় নিউইয়র্ক সিটির জ্যাকসন হাইটসে জুইশ সেন্টাওে ১৬ ডিসেম্বর শুক্রবার সন্ধ্যায়। মহান মুক্তিযুদ্ধে আত্ম-উৎসর্গকারী বীর শহীদগণের স্মরণে দাঁড়িয়ে একমিনিট নিরবতা পালন ও তাঁদের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনার পর জাতীয় সঙ্গীতের সাথে বিজয়ের গান পরিবেশন করেন বহ্নিশিখার শিল্পীরা।

নেতৃত্বে ছিলেন বহ্নিশিখার পরিচালক ও সেক্টর কমান্ডারস ফোরামের মহিলা বিষয়ক সম্পাদক সবিতা দাস। দেশ ও প্রবাসের মহিলাদের কল্যাণে কর্মরত ‘তারার আলো’র সভাপতি মিনা ইসলাম এবং সেক্রেটারি ফারহানা আমানের নেতৃত্বে সংগঠনের শিল্পীরাও ছিলেন এ পর্বে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উজ্জীবিত গানে গানে আপ্লুত করেন শাহ মাহবুব, রুনা রায়, ইসমত জাহান পলি, কানিজ ফাতেমা, সবিতা দাস, উইলি নন্দি প্রমুখ। তবলায় সঙ্গত করেন সজীব মোদক।

উদ্বোধনী পর্বে লাল-সবুজের রঙে রাঙানো শাড়ি পরিহিত ‘তারার আলো’র সদস্য-কর্মকর্তারা জাতীয় পতাকা হাতে ‘এক সাগর রক্তের বিনিময়ে বাংলার স্বাধীনতা আনলে যারা’ সঙ্গিতের তালে অনুষ্ঠানে প্রবেশের পর উপস্থিত সকল মুক্তিযোদ্ধাকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান। বিপুল করতালির সাথে জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু স্লোগানে মুখরিত হয় অনুষ্ঠানস্থল। তাঁরা মুক্তিযোদ্ধাগণকে অভিবাদনও জানান।

এ অনুষ্ঠানের জন্যে গঠিত সাব-কমিটির আহবায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা রাশেদ আহমেদের সভাপতিত্বে এবং সদস্য-সচিব বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল বাশার চুন্নুর সার্বিক সমন্বয়ে পুরো অনুষ্ঠানের সঞ্চালনায় ছিলেন আমেরিকা-বাংলাদেশ প্রেসক্লাবের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাহ ফারুক।

স্বাগত বক্তব্য দেন সেক্টর কমান্ডারস ফোরামের সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা রেজাউল বারি এবং আলোচনার সূচনা করেন সংগঠনের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা লাবলু আনসার। লাবলু আনসার বলেন, প্রয়াত ইন্দিরা গান্ধির প্রতিও কৃতজ্ঞতা জানাতে হবে বিজয় দিবসের সমাবেশে। বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে আমরা মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ার পর সেই যুদ্ধ স্বল্প সময়ের মধ্যে সফল হয়েছে ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর আন্তরিক সহযোগিতায়। সে সময়ের সোভিয়েত ইউনিয়নের ভূমিকার কথাও ভুললে চলবে না।

আলোচনায় অংশ নিয়ে মুুক্তিযুদ্ধে ভারতীয় বন্ধু মানবাধিকার সংগঠক ও লেখক ড. পার্থ ব্যানার্জি বলেন, একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে ভারতীয়দের অবদানের কথা ইতিহাসে তেমনভাবে ঠাঁই পাচ্ছে না। আজকের প্রজন্ম কিছুই জানতে সক্ষম হচ্ছে না।

এ অবস্থার অবসান ঘটাতে হবে। ওয়ার্ল্ড হিউম্যান রাইটস এ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের প্রেসিডেন্ট শাহ শহীদুল হক সাঈদ বলেন, একাত্তরে ভারতের প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর অবদানকে চির স্মরণীয় করে রাখতে বাংলাদেশে একটি ‘ইন্দিরা স্মৃতিসৌধ’ নির্মাণ করা উচিত।

আমি বীর মুক্তিযোদ্ধাগণের এ বিজয় সমাবেশ থেকে বাংলাদেশ সরকারের প্রতি এ আবেদন জানাচ্ছি। আলোচনায় আরো অংশ নেন যোদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা খোরশেদ আনোয়ার বাবলু এবং মহিলা আওয়ামী লীগের নেতা নুরুন্নাহার আলম।

বিজয় দিবসের আলোকে কবিতা-গানে অংশ নেন সেক্টর কমান্ডারস ফোরামের সদস্য শামিম শরীফ এবং নৃত্য পরিবেশন করে অনিন্দিতা ভট্টাচার্য।

অনুষ্ঠানে বীর মুক্তিযোদ্ধাগণের মধ্যে আরো ছিলেন মতিউর রহমান, এনামুল হক, ইমদাদুল হক, শহীদুল হক, আব্দুর রাজ্জাক, আবুল বাশার ভ’ইয়া, আবুল বাশার চুন্নু, নাজিমউদ্দিন, মেসবাহউদ্দিন আহমেদ।

মন্তব্য / থেকে প্রত্যুত্তর দিন

আপনি ও পছন্দ করতে পারেন