
রূপসায় ওয়াসার কারনে যাতায়েতের রাস্তা বন্ধ, মিলছে না সমাধান
রূপসা (খুলনা) প্রতিনিধি
খুলনা শহরের মানুষদের নিরাপদ পানি সরবরাহের জন্য রূপসা উপজেলায় পাথরঘাটা গ্রামে নির্মিত হয়েছে সারফেস ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট খুলনা ওয়াসা। এই ওয়াসার কারনে শহরের লক্ষ লক্ষ মানুষ উপকৃত হলেও ওয়াসার পাশে বসবাসকারী একটি পরিবারের বন্ধ হয়ে গেছে সোজা ভাবে চলাচল করার অধিকার।
কারন তাদের বাড়ী থেকে বের হওয়ার একমাত্র রাস্তাটি ওয়াসার সীমানা প্রাচিরের কারনে বন্ধ হয়ে গেছে। তাদের কে বাড়ির বাইরে বের হতে হলে দুই পাশে বাঁশের তৈরি মই দিয়ে সীমানা প্রাচির পার হয়ে বের হতে হয়। এই পরিবারে রয়েছে অসুস্থ্য বৃদ্ধা মা, স্ত্রী এবং ছোট ছোট ৩ টি বাচ্ছা। বৃদ্ধ মা অসুস্থ থাকার কারনে তাকে সীমানা প্রাচির পার করে রাস্তায় এনে হাসপাতালে নিতে ভোগান্তি পোহাতে হয় প্রতিনিয়ত। পরিবারটি মুসলীম হওয়ার স্ত্রীকে হিজাব পড়ে মই পাড়ী দিতে মাঝে মধ্যে দুর্ঘটনার স্বীকার হতে হয়। এছাড়া ছোট অবুজ শিশুরা রাস্তা আসতে গিয়ে প্রাচির থেকে পড়ে দুর্ঘটনায় পতিত হয় প্রতিনিয়ত। বড় বাচ্ছাটি কে রাস্তা পার করার ভয়ে মাদ্রাসায় রেখে লেখাপড়া করাচ্ছে পরিবারটি।
এই বিষয়ে ভুক্তভুগী পরিবারের প্রধান হাকিম সাইফুল ইসলাম বলেন আমাদের বসতবাড়ী ও ভিটা জমিতে যাতায়াত করার জন্য রেকর্ডিও সরকারি রাস্তা ছিল এই রাস্তা দিয়ে যুগ যুগ ধরে এলাকার সাধারণ জনগন চলাফেরা করে আসছে। ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট এর প্রধান রাস্তা থেকে ৫০০ ফুট দুরে বিলের মধ্যে নির্মাণ হওয়ায় রাস্তা প্রসন্ত করার জন্য রেকর্ডিও রাস্তার দুই পার্শ্ব দিয়ে কিছু জমি ক্রয় করে রাস্তা নির্মাণ করার প্রস্তাব দেয়। এ সময় জমির মালিকগন রাস্তা ব্যবহার সম্পর্কে জানতে চাইলে কর্তৃপক্ষ জানান, রাস্তাটি জমির মালিকদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে।এই শর্তে ওয়াসা কর্তৃপক্ষকে তারা জমি দেন।
পরবর্তীতে রাস্তা তৈরি করে কর্তৃপক্ষ গ্রিল ও প্রাচির দিয়ে রাস্তা বন্ধ করে দেয়। তখন ওয়াসা কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানালে তারা নিরাপত্তার ভয় দেখায়। বিষয়টি ২০১৯ সালের ৫ই জানুয়ারী রূপসা উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে লিখিত ভাবে জানালে তিনি উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভুমি) কর্মকর্তার কাছে হস্তান্তর করেন।
তিনি সরজমিনে পরিদর্শন করে ওয়াসা কর্তৃপক্ষ ও ভূক্তভুগী জমির মালিককে ডেকে শুনানী করেন। স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ও মেম্বরের কাছে বিষয়টি অবগত করালে তারাও কোন সিদ্ধান্ত দিতে ব্যর্থ হন। তার পর থেকেই প্রতিনিয়তে অফিসে অফিসে ঘুরেও কোন সমাধান পাইনি। বর্তমান সরকারের কাছে আমি জোর দাবী জানাচ্ছি তারা আমাদের দুর্দশার কথা চিন্তা করে সরজমিনে এসে পুনরায় তদন্ত করে বিষয়টি সুরাহা করবেন বলে আমি আশাবাদী।